"স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা"
মো: সফিকুল ইসলাম।
অতিরিক্ত সচিব, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, (সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মোহনপুর, রাজশাহী।)
🌱 প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
জনাব মো. সফিকুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত, দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। তিনি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার জালাই গ্রামে এক সন্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম গুলজার হোসেন এবং মাতার নাম হামিদা বেগম।
তিনি তার গ্রামের স্কুলেপ্রাথমিক ও মাধ্যমিক এবং উপজেলা পর্যায়ের কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকউচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৮১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়েস্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবনেও তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্তথেকেসাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কাজ শুরু করেন।
💼 কর্মজীবন: জনসেবায়নিবেদিত পথচলা
জনাব সফিকুল ইসলামের কর্মজীবন শুরু হয় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পূর্বেই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায়মতিলাল কলেজের জীববিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন কেরাণীগঞ্জে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।
তাঁর সরকারি চাকরির মূল অধ্যায় শুরু হয় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ফেনী জেলায় যোগদানের মাধ্যমে। তাঁর চাকরি জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসে ১৯৮৮ সালে নোয়াখালী জেলার দুর্গম হাতিয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে থাকাকালীন। এসময় তিনি হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপে ৯টি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করে ৬৫০টি ভূমিহীন পরিবারকে কৃষি জমি বন্দোবস্ত ও পুনর্বাসন প্রদান করেন। ভূমি দস্যুদের হাত থেকে খাস জমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণে তাঁর ভূমিকা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী ও স্মরণীয়।
পরবর্তীতে তিনিঢাকা কালেক্টরেটে স্থানীয় সরকারের সহকারী পরিচালক এবং লিয়েনে ইউএনডিপি’রঅর্থায়নে দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় তৃণমূল জনগণের আর্থ-সামজিকউন্নয়নে নিয়োজিত ছিলেন।তিনি রাজশাহীর মোহনপুর, ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায়উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটে পরিচালক (গবেষণা), স্থানীয় সরকার বিভাগে উপসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব এবং সবশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে সরকারিচাকরিঅবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পরও তিনি বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক এবং ওয়াটারএইড নামক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় পলিসি ও এডভোকেসি উপদেষ্টা হিসেবে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
💡 স্বপ্নদ্রষ্টা: শতফুলএবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান
সরকারি কাজের পাশাপাশি সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বেশ কয়েকটি অসামান্য সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা:
- নিঝুম দ্বীপ ফাউন্ডেশন ও নিঝুম দ্বীপ শতফুল সরকারি প্রাথমিকবিদ্যালয়: হাতিয়ায় থাকাকালীন নিঝুম দ্বীপের সার্বিক উন্নয়ন, গণমানুষের কল্যাণ ও শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যেতিনি এসকলপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
- শতফুল বাংলাদেশ: ২০০১ সালে রাজশাহীর মোহনপুরে ইউএনও থাকাকালীন স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের সংগঠিত করে তিনি এই সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠনটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে এটি’রকার্যক্রম বৃহত্তর রাজশাহীর সকল জেলায় ৬৯ হাজারের অধিক সদস্য ও প্রায় ৭০০ কর্মীর মাধ্যমে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে।
- শতফুল স্কুল: মানসম্মত শিক্ষা ও মানবিকবোধ সম্পন্ন বিশ্বনাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে শতফুল বাংলাদেশএর সর্বিক সহায়তায়তিনি এটি চালু করেন, যেখানে দেশীয় শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরশিক্ষা দান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বাংলা, ইংরেজি, আরবি শেখার পাশাপাশি কোরিয়ানভাষা শেখানো হচ্ছে।
- বাংলাদেশ এডুকেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং (বেস্ট) ফাউন্ডেশন, ওপেন স্ট্রিট ম্যাপ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (ওএসএমবিডিএফ) ও এইচএলপিফাউন্ডেশন: মানসম্মতশিক্ষা বিস্তার, তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর মানচিত্র তৈরি ও উত্তম চর্চা রূপায়ন বিষয়ে এসকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহ তার প্রত্যক্ষ ওসার্বিক সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে এবং বর্তমানে স্ব স্ব ক্ষেত্রে অবদান রেখে চলেছে।
👨👩👧👦 ব্যক্তিগত জীবন
জনাব মো. সফিকুল ইসলাম এরস্ত্রী ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি, সরকারেরসাবেক সিনিয়র সচিবএবং একমাত্র সন্তান অনিন্দ্য মাশরাফি আরিফ অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নশেষে বর্তমানে সেখানেই কর্মরত।তাঁর সম্পাদিত ও রচিত সংকলনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘প্রেক্ষাপট নিঝুম দ্বীপ’ এবং বিভিন্ন গবেষণা নিবন্ধ।
একজন কৃষকপুত্র থেকে সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদে আসীন হওয়া এবং একই সাথে একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা এবং অনুপ্রেরণামূলক বক্তাহিসেবে জনাব মো. সফিকুল ইসলাম দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।
“Shataphool Bangladesh” নামক এই স্বনামধন্য এনজিও প্রতিষ্ঠানটি স্যার জনাব মো: সফিকুল ইসলাম এঁর কাছে চির ঋণী।